Read গোয়েন্দা ঝাকানাকা ও এক ডজন রহস্য by মাহবুব আজাদ Online

------------

গোযেনদা ঝাকানাকা উপমহাদেশের সবচেযে মারকুটে আর বিখযাত গোযেনদা। চা, চানাচুর আর চুরুটের ভকত ঝাকানাকা তিববতের এক গুমফায খোদ ঝালাই লামার কাছ থেকে নানারকম মারপিটের কাযদা রপত করে এসে নিযমিত রাজযের পাজি বিটকেলকে ঠযাঙান, আর তার ফাঁকে ফাঁকে নানা রহসয ভেদ করেন। গোযেনদা পুলিশের দারোগা কিংকরতবযবিমূঢ চৌধারি পরাযই নানা রহসযের ঘাযে ঘাযেল হযে ঝাকানাকার শরণাপনন হন, তারপর তারা দু'জন মিলে সেসগোয়েন্দা ঝাকানাকা উপমহাদেশের সবচেয়ে মারকুটে আর বিখ্যাত গোয়েন্দা। চা, চানাচুর আর চুরুটের ভক্ত ঝাকানাকা তিব্বতের এক গুম্ফায় খোদ ঝালাই লামার কাছ থেকে নানারকম মারপিটের কায়দা রপ্ত করে এসে নিয়মিত রাজ্যের পাজি বিটকেলকে ঠ্যাঙান, আর তার ফাঁকে ফাঁকে নানা রহস্য ভেদ করেন। গোয়েন্দা পুলিশের দারোগা কিংকর্তব্যবিমূঢ় চৌধারি প্রায়ই নানা রহস্যের ঘায়ে ঘায়েল হয়ে ঝাকানাকার শরণাপন্ন হন, তারপর তারা দু'জন মিলে সেসব রহস্য সমাধান করেন।সে রহস্যগুলোতে অবধারিতভাবেই জড়িত থাকে উপমহাদেশের কুখ্যাততম বিটকেল দস্যু বদরু খাঁ। ছদ্মবেশ ধারণে অতি পটু বদরু এর ওর ছদ্মবেশ নিয়ে প্রায় প্রতিটি গল্পেই কোনো এক আপাতনিরীহ চরিত্র সেজে হাজির থাকে। কিন্তু প্রায় সব গল্পেই বদরু শেষ পর্যন্ত তার চিরশত্রু ঝাকানাকার হাতে পরাস্ত হয়, কিন্তু পরের গল্পে হাজির হওয়ার জন্যে একেবারে শেষ মুহূর্তে ঝাকানাকার সঙ্গে ধস্তাধস্তি মারপিট করে সটকে পড়ে। ঝাকানাকার গল্পগুলো তুচ্ছাতিতুচ্ছ সব রহস্য নিয়ে। ভীষণ সিরিয়াস খুনজখমের গা-ছমছমে পরিস্থিতি নয়, বরং নানা সমসাময়িক ঘটনাকে স্যাটায়ারের মোড়কে হাস্যরস ও রহস্যে গল্পগুলো জড়ানো।...

Title : গোয়েন্দা ঝাকানাকা ও এক ডজন রহস্য
Author :
Rating :
ISBN : 9789849073857
Format Type : Paperback
Number of Pages : 240 Pages
Status : Available For Download
Last checked : 21 Minutes ago!

গোয়েন্দা ঝাকানাকা ও এক ডজন রহস্য Reviews

  • Nadia Jasmine
    2019-03-04 05:45

    এই বই ২০১৪ সালের মার্চে কেনা। এতদিনে পড়লাম। ভেবেছিলাম, বইমেলা থেকে কেনা। মার্চে এই বই পাওয়া যায়, এমন বইমেলা হয় না। যাই হোক, প্রথম পরিচয় মনে নাই। বাকিদের মতো আমি সচলায়তনে ওনার লেখা পড়ি নি। কিন্তু, শুধু দেখতাম, তার বাদবাকি বইগুলোর রিভিউতে পাঠকদের উচ্ছ্বাস। এই বই পড়ার বড়ো কারণ, এটি পেপারব্যাক। সেটা আসলে কেন জরুরী, তা বলে আর বাগাড়ম্বর করলাম না। এমনিতেই অনেক কিছু বলে ফেলেছি। এক ডজন গল্প পড়তে পড়তে ১০টায় যখন আসলাম, তখন মনে হল, আর দুইটা গল্পের পর শেষ হয়ে যাবে? সত্যজিতের মতো, আরো বারো বা আরো এক ডজন কি আমরা পেতে পারি না? :( কোন এক সময়ে ১০০টি গল্পের একটা সংকলন হলে মন্দ হয় না। ছদ্মবেশের বিষয়গুলো মিশন ইম্পসিবল এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যেহেতু, মিশন ইম্পসিবল এর সিকুয়েলের পর সিকুয়েল বের হচ্ছে, ঝাকানাকাই বা কম কিসে! এদ্দুর পর্যন্ত পড়ে আশা করি বোঝা যাচ্ছে, যে খুবই মুগ্ধ হয়েছি লেখকের গোয়েন্দাগিরির নামক উচ্চ পর্যায়ের ফাইজলামি মিশ্রিত গোয়েন্দাজলামিতে! আর শিবরামগিরিও দ্রষ্টব্য... অজ্ঞান পার্টি নয়, অজ্ঞান ফর পার্টি, খানসামা শামা খান! (কিভাবে এসব উদ্ভট বিষয় মাথায় আসে!! আল্লাহ যেন এই মাথায় আরো ঝাকানাকা এবং কিংকু হাজির করে)। আরো কয়েক শো ডজন ঝাকানাকা এর দাবি প্রকাশ করতেই এই অদরকারি রিভিউ। :) ইতি, যার বদরু খাঁকে বেশি ভালো লেগেছে। :P

  • Emtiaj
    2019-02-22 03:49

    শুধুমাত্র নাম দেখেই বইটা পড়া শুরু করেছিলাম। ঝাকানাকা, কি অসাধারণ নাম :)এতো স্যাটায়ার, এতো ফান একটা বইয়ে কিভাবে থাকে। বইটা পড়ে এতো পরিমাণ হেসেছিলাম যে, একবার রুমমেট জিজ্ঞেস করেছিলো, কিরে টম এন্ড জেরি দেখ নাকি!!

  • Shuhan Rizwan
    2019-03-14 04:25

    বাংলা আন্তর্জালে নিয়মিত ঘোরাঘুরি করা পাঠকদের কাছে গোয়েন্দা ঝাকানাকার নাম খুব অপরিচিত হবার কথা নয়। সচলাতনের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে থাকা এই উদ্ভট গোয়েন্দার এক ডজন অভিযানকে লেখক মাহবুব আজাদ বন্দী করেছেন দুই মলাটে। তবে হার্ড কভার নয়, পেপারব্যাক মলাটে।ঝাকানাকা উপমহাদেশের সবচাইতে মারকুটে গোয়েন্দা। এবং তার প্রতিপক্ষ নচ্ছাড় দস্যু বদরু খাঁ। প্রায় প্রতিটি গল্পেই ঝাকানাকার সাহায্য চাইতে হাজির থাকেন পুলিশ ইন্সপেক্টর কিংকর্তব্যবিমুঢ় চৌধুরী। মূলত এই তিনকে নিয়েই ঝাকানাকার তাবৎ অভিযান। বর্ণনা পড়ে যেমনটা বোধহয়, ঠিক তেমনি খুন-জখম-সাসপেন্স-সাইলেন্সারওয়ালা প্রকৃত গোয়েন্দা গল্প নয় ঝাকানাকার গপ্পোগুলো। বরং এ যেন অনেকটা ঠিক শীর্ষেন্দুর গোয়েন্দা বরদাচরণের মতো। উদ্ভট সব কাহিনীবিন্যাসে হাসি পায় পদে পদে।তবে গোয়েন্দা বরদাচরণের চাইতে কিন্তু বিষয় নির্বাচনে একদমই স্বতন্ত্র গোয়েন্দা ঝাকানা। পিসুনচ্ছাড় রহস্য, বিউটি পার্লার রহস্য, জাঙ্গিয়া রহস্য- এমন ধারা নামকরণ ইঙ্গিত করে তার কেসগুলোর বৈচিত্র্যের দিকেই। সত্যি বলতে, গল্পের চরিত্রগুলোর নামকরণই এই বইটাতে সবচাইতে ভালো লেগেছে। নৌ-মন্ত্রীর নাম ভাস্কর দা গামা, মঙ্গল পার্টির চেয়ারম্যান কমোডোর ইবলিশিম- এই সব নাম পড়ে হাসি আটকানো যায় না। বইয়ের বারোটি গল্পের মাঝে ‘হারাধনের দশটি ছেলে’, ‘জাঙ্গিয়া রহস্য’ আর ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস হাফমজুর হত্যা রহস্য’ গল্প তিনটি একটু যেন বেশিই মজাদার।উদ্ভুট্টি এই বইটার প্রসঙ্গ শেষ করবো দুইটি বিশেষ ব্যাপার নির্দেশ করেই। এর মাঝে একটি হলো, বইয়ের শুরুতেই ঝাকানাকা প্রসঙ্গে রবি ঠাকুর, আর্থার কোনান ডয়েল আর সক্রেটিসের ভূতের মন্তব্য। বইয়ের ভাবগতিক বোঝাতে এর চাইতে কার্যকরী আর কিছু হতে পারতো না। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো বইয়ের উৎসর্গ পাতা। সামিউল ওয়াসেক সিমন ভাই জীবনের লড়াইয়ে চল্লিশ সিটের বাসকে পরাজিত করতে সক্ষম- এ তো আমরা অনেকেই জানি। এখন দেখা যাচ্ছে, উপমহাদেশের মারকুটেতম গোয়েন্দাটিও নমস্য মানছে এই সুপারম্যানকে !

  • Ismail
    2019-03-08 01:25

    লেখকের হিউমার ভাল। কিন্তু স্যাটায়ার ভাল না। নিছক গল্প হিসেবে যে ক’টা কাহিনি লিখেছেন, পড়ে মজা পেয়েছি। কিন্তু স্যাটায়ারধর্মী কাহিনিগুলো বেশ স্থূল মনে হয়েছে। তা ছাড়া পুরো বইজুড়ে অসংখ্য মুদ্রণপ্রমাদ। আরেকটু যত্নবান হবার অবকাশ রয়েছে।

  • Suranjana
    2019-02-21 21:24

    সকালের আলোয় বইটা হাতে নিয়েই মন ভালো হয়ে গেল। দুর্দান্ত প্রচ্ছদ! গাঢ় নীল সন্ধ্যার আকাশের গায়ে, একটা বিল্ডিং এর পানির পাইপ বেয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে দস্যু বদরু খাঁ -কে, মুখে উৎকট হাসি নিয়ে সে পোজ দিচ্ছে যেন প্রচ্ছদের জন্যে, জানালা দিয়ে উদ্বিগ্ন কিংকু চৌধারীকে সেটা বুড়ো আঙুল তুলে পয়েন্ট করে দেখাচ্ছেন চুরুট হাতে উপমহাদেশের সবচেয়ে মারকুটে আর বিখ্যাত গোয়েন্দা ঝাকানাকা। এদের পেছনে আকাশে ঝুলছে বাঁকা চাঁদ। বই এর মুদ্রণ চমৎকার, প্রচ্ছদে আকাশের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তারার ডটগুলোও দেখা যাচ্ছে! ছবি আঁকা দেখেই বোঝা যায়, তবু বই খুলে দেখি লেখা আছে, প্রচ্ছদঃ সুজন চৌধুরী।বই এর ফ্ল্যাপে দেখি প্ল্যানচেট চলছে, রীতিমত ভূতের সভা বসে গেছে, তিন বিশিষ্ট জনের ভূত এসে ঝাকানাকার গল্পের সুখ্যাতি করে গেলেন। এর মাঝে স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের ভূত দেখলাম আবার অনেক ইন্ডাস্ট্রিয়াস, তিনি রবি ঠাকুরের ভূতের কাছ থেকে বাংলা শিখে নিয়ে প্রশংসাবাণী লিখে দিয়ে গেছেন। :) গোয়েন্দা ঝাকানাকার গল্প গুলো ঠিক আলো-আঁধারি ভরা থ্রিলার নয়, গল্পে রহস্য তো আছে বটেই, কিন্তু আরো যেটা আছে সেটা হচ্ছে একটা নিজস্ব রকমের মজলিশী মেজাজ। সত্যজিৎ রায়ের তারিণী খুঁড়োর গল্প যারা পড়েছেন তারা জানেন, ওই গল্পগুলোতে একটা আলাদা রকম আমেজ আছে। যেন চা, কিন্তু ঠিক চা নয়, মশলার ফোড়ন দেয়া সুবাসিত চা। গোয়েন্দা ঝাকানাকা, তার অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংকু চৌধারী, এমনকি তাদের সন্দেহভাজনদের তালিকায় থাকা নিত্যনতুন অভাজনদের সকলেরই মারাত্মক চায়ের নেশা! এক 'গোঁফ চুরি' গল্পেই সবাই মিলে জিজ্ঞাসাবাদের টেবিলে কয় কেতলি চা খেয়ে উজাড় করলো তার হিসেব রাখতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তাই পড়তে পড়তে একটু পর পরই মন উশখুশ করতে থাকে চায়ের জন্য।ইনফ্যাক্ট গল্পগুলো পড়তে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জিনিস খাবার জন্য ব্যাকুল হতে হয়। সবচেয়ে বেশি খেতে ইচ্ছে করে আচারের তেল, চানাচুর আর শসাকুচি দিয়ে মুড়িমাখা। মাঝে মাঝে বেলা বিস্কুটে কামড় দেয়ার জন্য প্রাণ ছটফট করে, সমুচা, সিঙারা, রুটি আর কাবাব তো আছেই। সবচেয়ে ঝামেলা হয় যখন মাঝরাতে হঠাৎ করে ল্যাংড়া আম বা পরোটা দিয়ে ভুটানি কবুতরের কলিজা ভুনা খাবার খায়েশে ঘুম বরবাদ হয়। বুদ্ধিমান পাঠক, ভরপেট খেয়ে, নিদেনপক্ষে দুই ফ্লাস্ক চা এবং এক প্যাকেট বেলা বিস্কুট নিয়ে গল্প পড়তে বসলে সবদিক থেকেই সুবিধা। :D চা-বিস্কুটের অত্যাচার বাদ দিলে, গল্পগুলো চমৎকার। সব গল্পই সমান মানের নয়, কিছু কিছু মোটামুটি , কিছু কিছু ভালো, আর বেশ কয়েকটা দুর্দান্ত ভালো গল্প আছে। আমার খুব, খুব পছন্দের লিস্টে আছে 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস হাফমজুর হত্যা রহস্য', 'গোঁফ চুরি রহস্য', 'অজ্ঞান পার্টি রহস্য', 'গোয়েন্দা বদরু খাঁ ও ফেডারেল বিটকেল ইউনিয়নে জাল ভোট রহস্য', 'জাঙ্গিয়া (আহেম!) রহস্য' এবং ' পিসুনচ্ছাড় (আহেম আহেম!) রহস্য'।এক এক গল্প এক এক কারণে বেশি পছন্দ, কিন্তু দুটো গল্প পছন্দ হবার পেছনের কারণ উল্লেখ করতে ইচ্ছা করছে। 'গোঁফ চুরি' গল্পটা পছন্দ এটার বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনার জন্যে। হাসিঠাট্টার মাঝেই চমৎকার করে ধরা পড়ে গেছে আপাতদৃষ্টে সৎ/মহৎ প্রতিষ্ঠানের বড় ধরণের পুকুর চুরির একটা উদাহরণ। এমনকি আশেপাশের অতি সরল 'অসৎ সনাক্তকরণে অপারগ' ব্যক্তিদের জন্য গল্পটা একরকম 'ইন্ট্রোডাকশন টু সুবিধাবাদী পলিটিক্স' হতে পারে।বইয়ের সবচাইতে আকর্ষণীয় উপাদান হচ্ছে, এর ঝাঁঝালো হাস্যরস। আপনার রসবোধ সূঁচের মত সূক্ষ্ম হোক, বা কোদালের ফলার মত স্থূল, সে ধারেই কাটুক বা ভারেই, গল্প পড়ে হাসতে আপনাকে হবেই। রসবোধ না থাকলে অবশ্য আলাদা ব্যাপার, সে ক্ষেত্রে রসের সন্ধান খেঁজুর গাছের কাছে করাই শ্রেয়। ;) বহু কথার পর যে কথাটা না বললেই নয়, সেটা হচ্ছে, বইটা দেখতে হয়েছে খুব সুন্দর। বাংলায় পেপারব্যাক এর আগে পড়িনি, এটা দারুণ হয়েছে। ছাপার মান অত্যন্ত ভালো, যদিও বেশ কিছু টাইপো আছে, তাও বই সাজানোর ক্ষেত্রে মনোযোগ আর যত্নের ছাপ চোখে পড়ে। সুন্দর একটা বই পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য লেখক, প্রকাশক, অলঙ্কারক, সকলকে অনেক ধন্যবাদ। :)

  • Koushik D
    2019-03-11 03:49

    গোয়েন্দা ঝাকানাকা নামটায় আমার বেশ আপত্তি ছিল। কেমন যেন একটু ইয়ে ইয়ে। পরে যখন পড়তে শুরু করলাম তখনো খচখচানিটা গেল না। কেন বাপু একজন জাঁদরেল ডিটেকটিভ তাঁর নাম কেন ঝাকানাকা হতে যাবে! কিন্তু পড়তে পড়তেই সে যখন আমাকে এক অপর বাস্তব জগতে নিয়ে যায় তখন বুঝি ঝাকানাকা নাম হতেই পারে, যেখানে এক নিমিষে একজনের পেন্টুলুন খুলে পালটে আবার পরিয়ে দেয়া হয় সেখানে ঝাকানাকা নাম না হলেই কেমন যেন লাগতো। তারপর পরে যখন আবার গ্রাফিক নভেল ভার্সন হল তখন মধ্যবয়সী তাগরাই গোঁফের ঝাকানাকাকে দেখে আরেকবার হোঁচট খেলাম! তখন কিন্তু আর ঝাকানাকা নামে সমস্যা হল না, বরঞ্চ নামটার মধ্যে বেশ খানদানি একটা ব্যাপার ফুঁটে উঠলো। অফিসার কিংকর্তব্যবিমূঢ় যখন কোন কেসে ফেঁসে গিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ঝাকানাকার বাড়িতে বলা নেই কওয়া নেই উপস্থিত হয়ে আচারের তেলের মুড়িমাখায় ভাগ বসিয়ে হেল্প চান, কখনো বদরু খাঁ'র পেজোমির সন্ধান দেন কখনো বা, নেতাদের ফ্ল্যাটবাড়ীতে লিফটে হিশু করে রাখে কোন বদ, এরকম নানা সাংঘাতিক সব রহস্য, ঝাকানাকা বেরিয়ে পরেন অনুসন্ধানে। ঝাকানাকার মাথা আর হাত সমানে চলে, আর সাথে চলে লেখকের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রসিকতা। লেখক সাম্প্রতিক প্রাসঙ্গিক যত ঘটনা চরিত্র নিয়ে আসেন আর প্রোজেক্ট করেন গল্পগুলিতে। পাঠক যদি জানে তবে ডবল মজা পাবে আর যদি না জানে শুধু কাহিনীর মজা পাবে। এখানেই লেখক অন্য গোয়েন্দাগল্প লেখার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। "গোয়েন্দা ঝাকানাকা ও এক ডজন রহস্য" বইটায় এরকমই বারোটি গল্পের বারোটির রহস্যের মধ্যে দিয়ে লেখক আপনাকে হাস্যরসের মধ্যে দিয়ে পরিণতিতে নিয়ে যাবার মাঝেই পরিচিত করিয়ে দেবে আপনারই চারপাশে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলীর মধ্যে দিয়ে।

  • Kazi Faysal Ranel
    2019-02-23 21:52

    স্যাটায়ার আকারে যে চলতি ঘটনা প্রবাহকে ধরে রাখা সম্ভব এটা বাংলাদেশী অধিকাংশ লেখকের মাথাতেই আসে না। নির্ভেজাল ঘটনাপ্রবাহের শব্দের গাঁথুনি দিয়ে ঘটনাকে যতটা না বেঁধে রাখা যায়, তার শতগুণ রাখা যায় সাহিত্যের অন্য মাধ্যমগুলো দিয়ে। গোয়েন্দা ঝাকানাকা ও এক ডজন রহস্য বইটির লেখক মাহবুব আজাদ ঠিক সেই কাজটিই করেছেন। বইটি পড়ার শুরুতে একটা কথা মনে হয়েছে যে ঠিক ১০ বছর পর কোন পাঠক এই বই পড়ার সময় কি গল্পের পেছনের ঘটনাটা ধরতে পারবে? পরক্ষনেই সেই ভাবনা দূর হয়েছে গল্পের কলাকুশলীদের নাম নির্বাচনের বিষয়টা দেখে। 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস হাফমজুর হত্যা রহস্য' গল্পটা পড়লেই বিষয়টা বোঝা যাবে।চলতি ঘটনা প্রবাহের কথা বাদই দিলাম, নির্ভেজাল আমোদের জন্য বইটা অবশ্যপাঠ্য। বিভিন্ন নামিদামী লেখকের ভূত যখন কোন বইয়ের ভূমিকা লিখে দেয়, তবে বুঝতে হবে সে বইয়ে একটা কিছু আছে!

  • Hammad
    2019-02-24 21:47

    বই তো না, অভিশাপ। গোয়েন্দা ঝাকানাকার দুই একটা গল্প আগেই অন্তর্জালে পড়েছি, কাজেই বইটা দেখেই কিনে ফেললাম। রবীন্দ্রনাথ এবং আর্থার কোনান ডয়েল-এর রিভিউ পড়ে মনে বড় আশা ছিল এই বই পড়ে দোজাহানের অশেষ নেকী হাসিল করবো। কিন্তু মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। বাসে বসে বই পড়ি, বেকায়দা খেক করে হেসে ফেলি, পাশের লোক একটু সরে বসে। লাভের লাভ এই, মাঝেমাঝে কন্ডাক্টর ভয়ে ভাড়া নিতে আসেনা!প্রতিটা গল্পই হাসির ধুম ফেলে দিতে বাধ্য। কিন্তু তার মধ্য থেকেই উঁকি দেয় সমাজের নানারকম ভন্ডামির দিকে সরাসরি আক্রমন। উঠে আসে এক নষ্ট রাজনীতির , এক নষ্ট সময়ের কথা। হাসতে হাসতে ঠিক যখন দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়, তখনই কোন একটা কথা একটা ধাক্কার মতো লাগে।বইটা পড়ে ফেলেন। অনেক হাসতে পারবেন, খানিকটা ভাবতেও পারবেন।

  • Risalat Bari
    2019-03-07 01:40

    রবীন্দ্রনাথ, সক্রেটিস ও স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের ভুতেরা এই বইটির ভূমিকা লিখেছেন। সূতরাং যেকোন বিচারে এটা একটি অবশ্যপাঠ্য। লেখকের হিউমার সেন্স দূর্দান্ত। চমকপ্রদ এবং উদ্ভট গোয়ান্দাকাহিনীর আড়ালে সমসাময়িক সমাজ ও রাজনৈতিক বিষয়াবলী ধরে রাখার ব্যাপারটি অভিনব। গল্পের চরিত্রদের নামকরণ অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত এবং আলাদাভাবে প্রশংসার দাবী রাখে। যেকোন বয়সের যে কেউ বইটি পড়তে পারেন, হতাশ হতে হবে না নিশ্চিত।

  • Sami Washek
    2019-03-06 04:48

    গোয়েন্দা ঝাকানাকা, ইন্সপেক্টর কিংকর্তব্যবিমুঢ় চৌধুরী আর দস্যু বদরু খাঁ; এই তিনের শক্তিতেই ঝাকানাকার অভিযান চলে। বেশিরভাগ গোয়েন্দা কাহিনী ও সকল শিশু সাহিত্যের মত এই গল্পগুলোতেও শেষ পর্যায়ে দুষ্ট কুপোকাত হয় আর শিষ্টের পালন হয়। গল্পে ইন্সপেক্টর কিংকর্তব্যবিমুঢ় চৌধুরীকে আমরা যেভাবে উপস্থিত হতে দেখি, অর্থাৎ কিছুটা নারীঘেঁষা, খাদ্যরসিক এবং হাঁপাতে হাঁপাতে স্থানে উপস্থিতি, তাতে আমরা বুঝতে পারি যে বদরু খাঁ এর পালিয়ে যেতে পারার জন্যে ইন্সপেক্টর সাহেবের আনফিটনেস অনেকাংশে দায়ী। তবে এজন্যে চৌধুরী আমার কাছে বরং ধন্যবাদ ই পায়, কারন বদরু খাঁ যদি ছাড়া না থাকে তাহলে ঝাকানাকা গল্পে করবে কী? গোয়েন্দা গল্পের টানটান উত্তেজনা, খুন-জখম-মারামারি, থ্রিল ইত্যাদির চেয়ে এখানে উপভোগ্য চরিত্রগুলোর চরিত্রায়ন ও হাস্যরস। আর তাই সামা খানের মুড়িমাখা দেয়া কিংবা 'গোঁফ চুরি' গল্পে একের পর এক চরিত্রসমূহের চা পান করতে থাকার পাশাপাশি আমি ও কফি বা চায়ের কাপে চুমুক দিতে থাকি আর পৃষ্টা পাল্টাতে থাকি। মিস মিলিকে কল্পনা করতে সমস্যা হলেও বিভিন্ন চরিত্রসমূহকে কল্পনা করতে মোটেও বেগ পেতে হয়না। বরং যে জেনারেল হাফ প্যান্ট পড়ে গর্জে উঠেন গোড়ায় সাদা রঙ ছাড়া গাছ হয় কিনা, আসল ব্যাক্তিকে ভেবে দম আটকানো হাসির দমকে পড়ায় ছন্দপতন ঘটে। আর পাঠকদের বলছি, এমন ছন্দপতন কিন্তু প্রায়ই ঘটবে! হাস্যরসের ব্যাপারে আরেকটূ বলি। হাস্যরস কে খুব সাবধানে পরিচালনা করতে হয়; একটু এদিক-সেদিক হলে সেটি হয়ে যায় ভাঁড়ামো। স্থুল ভাঁড়ামো আর সূক্ষ হাস্যরস বা হিউমারের এক ডজন অভিযানকে লেখক মাহবুব আজাদ বন্দী করেছেন পেপারব্যাকে। প্রচ্ছদঃ সুজন চৌধুরী। তিনজন বিশিষ্ট ভুত প্রশংসা করেছেন ঝাকানাকার। ভবিষ্যতে হয়ত ভুত বিষয়ক কোন এডভেঞ্চারেও আমাদের নিয়ে যাবেন ঝাকানাকা। পরিশেষে এটুকুই বলি, লেখক মাহবুব আজাদ বইটি উৎসর্গ করেছেন এই অভাজনকে। আমি কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত। প্রচন্ড বাজে দিনগুলিতে এই বইয়ের হাস্যরস আমাকে স্বাভাবিক হতে অনেকবার সাহায্য করেছিল। ঝাকানা তার এডভেঞ্চার নিয়ে ফিরে আসুক প্রতি বইমেলায়। লেখক, প্রকাশক ও সকল সহযোগীকে আবারো ধন্যবাদ। জারি থাকুক হাস্যরস।

  • তাহসিন রেজা
    2019-03-14 00:46

    'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস হাফমজুর হত্যা রহস্য', 'গোঁফ চুরি রহস্য', 'অজ্ঞান পার্টি রহস্য', 'গোয়েন্দা বদরু খাঁ ও ফেডারেল বিটকেল ইউনিয়নে জাল ভোট রহস্য', 'জাঙ্গিয়া রহস্য' এবং ' পিসুনচ্ছাড় রহস্য' সবচেয়ে দারুণ । আরো ঝাকানাকার অপেক্ষায় । দুর্দান্ত প্রচ্ছদ ।

  • Sharmin Sharfuddin
    2019-03-05 01:36

    কেউ যদি সমসাময়িক ঘটনাগুলোর স্যাটায়ার আর রহস্য রোমাঞ্চ এক সাথে মুড়িমাখা করে রসাস্বাদন করতে চান, তাঁদের জন্য গোয়েন্দা ঝাকানাকা অবশ্যপাঠ্য। ব্লগের সুবাদে গল্পগুলো আগেই পড়া হয়ে গেছিলো। কিন্তু ধরুন কোন এক সন্ধ্যার অবসরে এক বিরাট বাটিতে দুই প্যাকেট ম্যাগি নুডলস বানিয়ে হাপুস হুপুস করে খাওয়ার সময় যখন মজার কিছু পড়ার জন্য মন আঁকুপাঁকু করতে থাকে - সেই সময়ের জন্যে এই আমি কেবল এই বইটিই খুঁজি। হো হো করে হাসতে হাসতে নুডলস আপনার গলায় বেঁধে যেতে যারে, তাই এক গ্লাস পানিও সাথে রাখতে পারেন। আমার বেলায় অবশ্য বিছানার পাশে মেঝেতে একটা বালিশও রাখতে হয় মাঝে মধ্যে। কারণ যখন পড়ি সংরক্ষিত আসনে মহিলা সাংসদদের হম্বিতম্বিতে তরুণ সাংসদরা কেঁদে ফেলার উপক্রম করছে,কিংবা যখন দেখি জেন্টস বিউটি পার্লারের নাম লালিমা পাল(পুং) - তখন হাসতে হাসতে বিছানা থেকে পড়ে যাই! পাতায় পাতায় স্যাটায়ার আর কমিক আপনাকে হাসাবে, আবার আপনাকে ভ্রু কুঁচকে চিন্তাও করতে বসাবে, 'আরে, এইটা কোন ঘটনা, কোন লোকের রেফারেন্স?'বাংলা গোয়েন্দাকাহিনির জগতে গোয়েন্দা ঝাকানাকা, তাঁর সাইডকিক কিংকু চৌধারি আর দুর্ধর্ষ ক্রিমিনাল মাস্টারমাইন্ড বদরু খাঁ অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও তাঁরা ব্যোমকেশ, ফেলুদা, লালমোহনবাবু, মগনলাল মেঘরাজের চেয়ে কোন অংশে পাঠকের কম প্রিয় হয়ে উঠবে না।এডিটঃ এই বইয়ে পাঠকের জন্যও লেখক একটা রহস্য রেখে দিয়েছেন, লেখকের প্রতি অনুরোধ পরের বার এরকম রহস্য রেখে দিয়ে পাঠককে ক্ষেপিয়ে তুলবেন না :P

  • Muhit Hasan
    2019-03-21 21:37

    সরসতা ও বুদ্ধির প্যাঁচগোচের সুচারু যুগলবন্দী হয়েছে এই ভিন্নধারার গোয়েন্দাকাহিনিগুলিতে। একই সাথে স্বদেশের সমসাময়িক অসংগতিময় পরিস্থিতি ও বিটকেল সব চরিত্রকে বিদ্রূপবাণে আঘাত হানতে গিয়ে যেমন লেখক আমাদের ভণ্ডামি হাড়মাংসসমেত উন্মোচিত করেন, তেমনি গোয়েন্দাগিরির আবরণে মগজকে শাণিয়ে নিতেও রসদ যোগান। এমন অভিনব মিশ্রণ সচরাচর দেখি না। তাই বইটি হাসবার ও ভাবার জন্য অবশ্যপাঠ্য।

  • Tahsina Syeda
    2019-03-08 03:52

    ২.৫/৫

  • অর্ক আহমেদ
    2019-03-08 23:36

    দুর্দান্ত সব চরিত্রে ঠাসা, এক বসায় শেষ করার মত গ্রাফিক নভেল!